ঢাকা, ২৬ নভেম্বর, ২০২০
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
করোনায় আরো ৩২ জনের মৃত্যু ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ফরিদুল হক খান ভারতীয় ‘ক্রাইম পেট্রোল’ দেখে ভাই-ভাবিসহ ৪ জনকে হত্যা সুনামগঞ্জ পৌর পানি শোধনাগার উদ্বোধন করলেন পরিকল্পনামন্ত্রী জগন্নাথপুর বিবি এডুকেশন ট্রাস্টের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত করিম

আকবরকে পালাতে পরামর্শদাতা পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার দাবি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর ২০২০  

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান উদ্দিন আহমদ (৩২) হত্যার মূল হোতা বরখাস্ত হওয়া উপপরিদর্শক (এসআই) আকবরকে পালিয়ে যেতে সহায়তাকারী পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ জড়িত পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে নিহত রায়হানের মা ও এলাকাবাসী।

নগরীর আখালিয়ায় রায়হানের নিজ বাসায় শনিবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। 

এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বৃহত্তর আখালিয়া সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক স্থানীয় ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল এবং সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

এ ছাড়া রায়হানের মা সালমা বেগম আকবরকে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় সিলেট জেলা পুলিশ এবং কানাইঘাট সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা ও খাসিয়া সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

সালমা বেগম বলেন, ‘আমি আর কিছু চাই না। শুধু ন্যায়বিচার যেন হয়। আমার রায়হানকে যারা মারছে (মেরেছে), যতদূর যারা জড়িত, সবাই যেন শাস্তি পায়। বিচারটা যেন শুরু হয়। ন্যায়বিচারটা যেন হয়। আমার আর কিছু চাওয়া নাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘সেদিন রাতে আমার ছেলের সঙ্গে কী ঘটেছিলো? কী কারণে আমার ছেলেকে এমন নির্মম নির্যাতন করে মেরে ফেলা হলো? আকবরের সঙ্গে আর কে কে এ ঘটনায় সক্রিয় ছিলো? আমার ছেলের পোশাকই বা কোথায় গেলো? এই সকল প্রশ্নের জবাব আকবরের কাছেই পাওয়া যাবে।’

সালমা বেগম বলেন, আমরা শুধু জানি পুলিশই আমার রায়হানকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। আর আকবরই এ ঘটনার মূল অভিযুক্ত। তার সঙ্গে আর কে কে ছিলো এখনও আমরা পুরোপুরি জানি না। আকবর বর্তমানে রিমান্ডে আছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সব জানা যাবে।

এ ঘটনার মূল হোতা বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে গত সোমবার (৯ অক্টোবর) কানাইঘাট সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন গত মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) থেকে সাত দিনের রিমান্ডে রয়েছেন তিনি। রিমান্ড শেষে তাঁকে আগামী ১৭ নভেম্বর আদালতে হাজির করা হবে। এ সময় তাঁকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার আহ্বান জানানো হবে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই।

সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকার নেহারীপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে রায়হান উদ্দিন আহমদকে (৩৩) গত ১০ অক্টোবর রাতে বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। পরের দিন ১১ অক্টোবর সকালে তাঁর লাশ পায় পরিবার। পরে ওই দিন রাতে নিহত রায়হানের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। স্বজনদের অভিযোগ, ১০ হাজার টাকা না পেয়ে রায়হানকে পুলিশ হেফাজতে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর ১২ অক্টোবর বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত কর্মকর্তা এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, এসআই টিটু চন্দ্র দাস, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ ও তৌহিদ মিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ ছাড়া প্রত্যাহার করা হয় সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেনকে। পরে ২১ অক্টোবর মামলার আলামত নষ্টের অভিযোগে এসআই হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

গত ১২ অক্টোবর পর্যন্ত আকবর পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি যাতে পালিয়ে ভারতে চলে যেতে না পারেন—এজন্য সিলেট জেলার সীমান্তবর্তী সব থানা এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয় বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন সিলেট জেলার পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন।

এদিকে, সীমান্তে আটকের পর আকবরের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরামর্শ পাওয়ার পর সিলেটের ভোলাগঞ্জ সীমান্ত ও মেঘালয়ের মাঝেরগাঁও এলাকা দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান তিনি। প্রথমে শিলং হয়ে আসামের শিলচরে অবস্থান করেন। 

গত সোমবার দুপুরে কানাইঘাট উপজেলার ডোনা সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে আসার পথে সীমান্ত এলাকায় লকডাউন থাকায় ভারতের খাসিয়ারা আটক করে। এরপর তারা তাঁকে বাংলাদেশের খাসিয়াদের কাছে হস্তান্তর করে।

আরও পড়ুন
এক্সক্লুসিভ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত