ঢাকা, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
২৫ জনকে আসামি করে আবরার হত্যার চার্জশিট:অভিযুক্তরা উচ্ছৃঙ্খল ছিল

‘আইওয়াশ’ করতে যাব কিসের জন্যে,আমিতো কোন আপন পর দেখিনি

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০১৯  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারের ব্যাপক দুর্নীতি বিরোধী অভিযানকে ‘আইওয়াশ’ বলে বিএনপির আশংকাকে উড়িয়ে দিয়ে এই অভিযানের শেষ পর্যন্ত দেখার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমি এখানে ‘আইওয়াশ’ করতে যাব কিসের জন্যে। আমিতো কোন আপন পর দেখিনি। হ্যাঁ যারা অপরাধ জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তারা যেই হোক আমরা তাদেরকে ধরছি। সেটাকে তারা ‘আইওয়াশ’ বলে কেন? ওইসব আইওয়াশের বিষয়টা বিএনপিই ভাল জানে। দেশটাকে দুর্নীতিতে নিয়ে আসা, দুর্নীতিকে একেবারে নীতিতে পরিণত করা সেটাতো বিএনপিরই করা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার বিকেলে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ন্যাম সম্মেলন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে একথা বলেন। খবর বাসসের

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এদেশে মানি লন্ডারিং থেকে শুরু করে ঋণ খেলাপি কালচার, মেধাবী যুব সমাজের হাতে অস্ত্র ও অর্থ তুলে দিয়ে তাদেরকে বিপথে নিয়ে যাওয়া,সন্ত্রাসি বানানো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অস্ত্রের ঝনঝনানি-জিয়াউর রহমানই শুরু করে গেছে। এরপর যিনি আসলেন এরশাদ, তিনি আরো একধাপ উপরে। আর তারপরে খালেদা জিয়াতো দোকানই খুলে বসলো। একদিকে হাওয়া ভবন এবং অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উন্নয়ন উইং। উন্নয়ন মানে হলো ঘুষ খাওয়ার উইং। কিন্তু আমরা সরকারে আসার পরতো এ সমস্ত কিছু হয়নি।’

শেখ হাসিনা বলেন, কাজেই এটাকে আইওয়াশ তারা বলে যাচ্ছে, ঠিক আছে দেখেন, অপেক্ষা করেন, ‘আইওয়াশ’ না কি তা দেখা যাবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দলীয় জোটের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থাসহ গণমাধ্যমের সম্পাদক এবং সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মূল যারা, আসল যারা দুর্নীতিবাজ, তারা দু’জনতো শাস্তি পেয়েই গেছে, খালেদা জিয়া এবং তার ছেলে। এছাড়া তাদের (বিএনপি) আরো অনেকে দুর্নীতি, অগ্নিসন্ত্রাস, মানুষ খুনসহ বহু অপরাধে অপরাধী। পর্যায়ক্রমে সকলেই শাস্তি পাবে। সাজা তাদের পেতে হবে, এর জন্য একটু অপেক্ষা করতে হবে। তবে, তারাও শাস্তি পাবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।’

রাজনীতিবিদ ছাড়াও অন্য পেশাজীবীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বিরোধী পদক্ষেপ গ্রহণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা সময়ই বলে দেবে, আসলে বেছে বেছে ক্রাইটেরিয়া ঠিক করেতো ধরা হচ্ছে না। যখন যেটা পাওয়া যাচ্ছে সেটাকেই ধরা হচ্ছে। ধরা পড়ার পরে না বোঝা যাচ্ছে কে কি। কাজেই অভিযান যখন চলছে তখন যখন যেটা বের হওয়ার তা বের হবে।’

তিনি বলেন, ‘অপরাধী অপরাধীই তার দলও নাই, কিছুই নাই। কাজেই যেই অপরাধ করুক অবশ্যই আমরা ধরবো, ধরা হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে, ক্রিকেট খেলোয়াড়দের ধর্মঘট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের যদি কোন দাবি-দাওয়া থাকতো তারা কিন্তু বিষয়টি পূর্বেই জানাতে পারতো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্মঘট করতে গেলে পূর্বে একটি দাবি-দাওয়া উত্থাপন করা হয় বা একটা সময় দেয়, নোটিশ দেয়, তারপরে করে। সেটা তারা করেনি।’ পরে ক্রিকেটারদের সঙ্গে ক্রিকেট বোর্ডের আলোচনায় বিষয়টির মিটমাট হয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ক্যাসিনোর সঙ্গে ক্রিকেট বোর্ডকে জড়িত করার কোন কারণ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, হয়তো এখানকার কেউ এর সঙ্গে জড়িত ছিল। সেরকম সাংবাদিক মহলে খোঁজ করলেও পাওয়া যেতে পারে জানান তিনি।

তিনি এ প্রসঙ্গে কখন কিসে কে কোথায় ধরা পড়ে তার ঠিক নেই উল্লেখ করে সে ধরনের কোন ঘটনা ঘটলে কি করবেন বলে সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান এবং বলেন, ‘যার কথা আপনারা বলছেন তাকে ধরা হয়েছে।’

এ সময় দেশে এ ধরনের ক্যাসিনো চলতে থাকলেও সংবাদপত্রে রিপোর্ট না আসার বিষয়ে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।

আইসিসির শাস্তির মুখে পড়তে যাওয়া ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বিষয়ে সরকারের খুব বেশিকিছু করণীয় আছে বলে মনে করেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিসিবি সব সময় সাকিবের সঙ্গে আছে। তাকে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।’ তিনি বলেন, ‘ওর (সাকিব) যেটা উচিত ছিল, ওর সঙ্গে যখন যোগাযোগ করেছিল বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। আসলে ও একটা ভুল করেছে। আইসিসি যদি কোনো ব্যবস্থা নেয় আমাদের আসলে কিছু করার থাকে না। খুব বেশিকিছু যে করণীয় আছে সেটা কিন্তু নয়।

আরও পড়ুন
এক্সক্লুসিভ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত