17 Nov 2018
Loading
 

প্রচ্ছদ

জাতীয়

বাণিজ্য

খেলাধুলা

তথ্যপ্রযুক্তি

শিক্ষা

বিনোদন

সাহিত্য-সংস্কৃতি

ঐতিহ্য

পর্যটন

প্রবাসের সংবাদ এক্সক্লুসিভ সংগঠন সংবাদ মুক্তিযুদ্ধ আর্কইভস
শিরোনাম:
Bread Crumbs

2016-11-20 17:45:30

ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২০,বগির ভেতরে আটকা মানুষের অসহায় আর্তনাদ

সিলেটনিউজ২৪.কম

ভারতের কানপুরে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২০ জনে দাঁড়িয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। আহত মানুষের সংখ্যা ২০০র কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে তারা।

দুর্ঘটনার সময়ে অধিকাংশ যাত্রী ঘুমন্ত ছিলেন। তাই অনেকেই আটকা পড়েছেন দুর্ঘটনার কবলে পড়া ১৪ বগির ভেতরে। এরমধ্যে ২টি বগিতে এখনও প্রবেশ করতেই সমর্থ হয়নি উদ্ধারকারী দল। সেই আটকা পড়াদের অসহায় আর্তনাদকেই এখন মনোযোগের কেন্দ্রে রেখেছে ভারত।

উদ্ধার তৎপরতা, আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্গতদের কাছে ত্রাণ পৌঁছানোকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু। আহতদের বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাই নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উত্তর প্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পৃথক পৃথক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

রবিবার ভোরে পুখরাইয়ার কাছে ইন্দোর থেকে পাটনাগামী ভারতীয় রেলের ১৯৩২১ এক্সপ্রেস ট্রেনটির ১৪টি বগি লাইনচ্যুত হলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কবলে পড়ার সময় ভিড়ে ঠাসা ট্রেনটির বেশির ভাগ যাত্রীই ছিলেন গভীর ঘুমে। দুর্ঘটনায় ওই ট্রেনের অন্তত ১৪টা কামরা একেবারে দুমড়েমুচড়ে যায়। কামড়াগুলোর প্রায় সবগুলোর ভেতরেই আটকা পড়েন অসংখ্য যাত্রী। ট্রেনের ধ্বংসস্তূপ থেকে আটকে পড়া সেই যাত্রীদের এখন পর্যন্ত উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভুর অফিশিয়াল টুইটার একাউন্ট থেকে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

তবে উদ্ধার তৎপরতা, আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্গতদের কাছে ত্রাণ পৌঁছানোকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। তার বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, ‘তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন উদ্ধার কাজ চলছে।’

বগির ভেতরে আটকা পড়াদের অনেকেই হতাহত। প্রাণে বেঁচে গেলেও তাদের অনেককেই বের করা যাচ্ছে না। উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রেলকর্মীরা বলছিলেন, বিধ্বস্ত কামরাগুলোর ভেতর থেকে জীবিতদের বের করাটাই তাদের এখন অগ্রাধিকার।

তারা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেছেন, ‘প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় এখনও পর্যন্ত পঞ্চাশের বেশি লোককে জীবিত বের করে আনা সম্ভব হয়েছে। গ্যাস কাটার দিয়ে খুব সাবধানে আমাদের ট্রেনের মেটাল কাটতে হচ্ছে, যাতে ভেতরে মানুষজনদের কোনও ক্ষতি না-হয়। তবে এখনও অনেক বাচ্চা ও মহিলাদের গলার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে - তারা বেঁচে আছেন বোঝা যাচ্ছে এবং তাদের বের করার জন্য আমরা সব রকম চেষ্টা চালাচ্ছি।’

হিন্দুস্থান টাইমস-এর খবরে বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনীর ৯০ সদস্য দুর্ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। উদ্ধার তৎপরতা ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় করছেন তারা। দুর্ঘটনাস্থলে ৪ সামরিক ডাক্তার, ২০ প্যারামেডিকস এবং ২টি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর কথাও জানিয়েছে হিন্দুস্থান টাইমস।

ট্রেনটি যখন উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসি স্টেশন ছাড়িয়ে কানপুরের দিকে তীব্র গতিতে ছুটছে, তখনই হঠাৎ ট্রেনের প্রায় সবগুলো কামরা লাইন থেকে ছিটকে যায়।

বিকেল চারটের মধ্যেই দোমড়ানো বগিগুলোর মধ্যে থেকে শতাধিক মৃতদেহ বের করা সম্ভব হয়। তবে রেল মন্ত্রণালয় ও প্রশাসন স্বীকার করছে, অন্তত দুটি কামরার ভেতর তারা এখনও প্রায় ঢুকতেই পারেননি। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার ব্যাপ্তি এতটাই বড় ছিল যে রেল প্রশাসন এবং উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সরকারের পক্ষেও পরিস্থিতি পুরোপুরি সামলানো সম্ভব নয় - সেটা স্পষ্ট হয়ে যায় এদিন সকালেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং জানান, সরকার ভারতের ন্যাশনাল ডিজেস্টার রেসপন্স ফোর্সের তিনটি ইউনিটকে ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়ার নির্দেশ দেয় প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বারাণসী, গাজিয়াবাদ ও দিল্লি থেকে এনডিআরএফ-এর তিনটি দল সেখানে পৌঁছে গেছে - বাহিনীর মহাপরিচালককেও আমি বলেছি ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দিতে। ঘটনাটা খুবই বিরাট - নিহতদের সকলের পরিবারকে আমি সমবেদনা জানাই। এই দুর্ঘটনার তদন্ত অবশ্যই হবে - যতদূর জানি সেই নির্দেশও জারি হয়ে গেছে।’

রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভুও ইতিমধ্যে টুইট করে জানান, `এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে`।

এরআগে ভারতের উত্তর-মধ্য রেলের মুখপাত্র বিজয় কুমার বলেন,‘একটি মেডিক্যাল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। অন্য যাত্রীদের যাতে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো যায় তার জন্য বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ বিজয় কুমার আরও জানান, ট্রেনের এস-২ কামরাটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কার জানিয়েছেন তিনি।

জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা দলজিৎ সিং চৌধুরি জানান, গ্যাস কাটারসহ ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ট্রেনের ধ্বংসস্তুপে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

Advertisement

প্রবাসের সংবাদ-এর সর্বশেষ খবর

প্রচ্ছদ জাতীয় বাণিজ্য খেলাধুলা তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা বিনোদন সাহিত্য-সংস্কৃতি ঐতিহ্য পর্যটন প্রবাসের সংবাদ এক্সক্লুসিভ সংগঠন সংবাদ মুক্তিযুদ্ধ আর্কইভস
Editor: Khaled Ahmed, SylhetNews24.com SNC Limited. Shah Forid Road. 30/3, Jalalabad R/A. Sylhet-3100. Bangladesh. Cell: +88 01711156789, +88 01611156789,
e-mail: [email protected], [email protected] Executive Editor: Mohammad Serajul Islam. cell:+88 01712 325665
All right ® reserved by SylhetNews24.com    Developed by eMythMakers.com & Incitaa e-Zone Ltd.