20 Sep 2018
Loading
 

প্রচ্ছদ

জাতীয়

বাণিজ্য

খেলাধুলা

তথ্যপ্রযুক্তি

শিক্ষা

বিনোদন

সাহিত্য-সংস্কৃতি

ঐতিহ্য

পর্যটন

প্রবাসের সংবাদ এক্সক্লুসিভ সংগঠন সংবাদ মুক্তিযুদ্ধ আর্কইভস
শিরোনাম:
Bread Crumbs

2011-03-31 14:31:43

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’ দশক
মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়েছে সামান্যই

আলমগীর হোসেন, সিলেট অফিস

সিলেটনিউজ২৪.কম

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দুই দশক পূর্ণ করেছে গত ৮ ফাল্গুন। প্রতিষ্ঠার সময় বিশ্ববিদ্যায়ের উন্নয়নে নেওয়া হয়েছিল ৩০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা। ২৬ বছর পেরিয়ে গেলেও সে মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন হয়েছে সামান্যই। তবে, এই সময়ে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলেও প্রাপ্তি রয়েছে অনেক।

১৯৮৫ সালে দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হয় ১৯৯১ সালে । মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন অনুষদ ও ইনস্টিটিউট এর অধীনে ৩৭টি বিভাগ চালু করার কথা থাকলেও চালু আছে মাত্র ২৫টি। আবাসন সুবিধার জন্য ৬টি ছাত্রহলের মধ্যে হয়েছে মাত্র ২টি। আর ৩টি ছাত্রীহলের মধ্যে হয়েছে মাত্র ১টি। শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্যে ২৮টি ভবনের মধ্যে নির্মিত হয়েছে মাত্র ৩টি। সহায়ক ও সাধারণ কর্মচারীদের জন্য ১৮টি স্টাফ কোয়ার্টারের মধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে মাত্র ১টি। ১৭টি একাডেমিক ব্লকের মধ্যে মাত্র ৫টি নির্মাণ করা হয়েছে।

মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী শাবিতে নির্মিত হয়নি সুইমিং পুল, সিনেট হল, বিজ্ঞান কারখানা, প্রজেক্ট অফিস, বিপণী কেন্দ্র, নিরাপত্তা ক্যাম্প, লেক, ইলেকট্রিক সাবস্টেশন, স্টেডিয়াম, টেনিস কোর্ট, হকি ও ক্রিকেট মাঠ। বাস্কেটবল গ্রাউন্ড ৩টির মধ্যে হয়েছে ১টি। নির্মিত হয়নি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সালেহ উদ্দিন জানান, সম্পদের অভাব থাকার কারণে অনেক পরিকল্পনাই বাস্তবায়র করা যায়না। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে। পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। তিনি  বলেন, ২য় ছাত্রীহল, ৩য় ছাত্রহল ও ১ম একাডেমিক ভবনের ক্ষতিগ্রস্থ ব্লকের নির্মাণ কাজ চলছে, ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১টি আইআইসিটি ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উপাচার্য বলেন, শুভ কাজে বাধা আসে বেশি। আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করছি বিশ্ববিদ্যালয়কে সর্বোচ্চ স্থানে নিয়ে যেতে।

তবে, শত প্রতিবন্ধকতা স্বত্বেও মানসম্মত পাঠদানের ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই এ বিশ্ববিদ্যালয়টি। শাবিতে সেশনজট নেই বললেই চলে। এ বিশ্ববিদ্যালয়টি অন্য যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর। বিশ্ববিদ্যালয়টি দুইবার মুঠোফোনের মাধ্যমে সফলভাবে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে শাবির অনুকরণে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও  মোবাইল ফোনে ভর্তি প্রক্রিয়া পদ্ধতি চালু করে। বর্তমানে শাবি ক্যাম্পাসের সর্বত্র রয়েছে তারবিহীন প্রযুক্তির (ওয়াইফাই নেটওয়ার্কিং) ব্যবস্থা।

এখানে মোট সাতটি অনুষদ বা স্কুলের অধীনে সর্বমোট পঁচিশটি বিভাগ রয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষাবর্ষে মোট ১৩৯০ জনের মতো শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পায়। বিভাগগুলোর মধ্যে স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড মিনারেল সায়েন্স এর অধীনে ফরেস্টি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস। স্কুল অব এপ্লাইড সায়েন্সেস এন্ড টেকনোলজি এর অধীনে আর্কিটেচার, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্সেস, সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রডাক্শন ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রেট্রোলিয়াম অ্যান্ড জিওরির্সোস ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রিক অ্যান্ড ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। স্কুল অব লাইভ সায়েন্সেস এর অধীনে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি, বায়োকেমেস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি। স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন এর অধীনে ব্যবসা প্রশাসন। স্কুল অব ফিজিক্যাল সায়েন্সেস এর অধীনে বিভাগগুলো হলো পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান, গণিত, পরিসংখ্যান, জিওগ্রাফি অ্যান্ড এনভারয়নমেন্ট। স্কুল অব সোস্যাল সায়েন্সেস এর অধীনে সমাজকর্ম, নৃবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি, পলিটিক্যাল স্টাডিজ ও লোক প্রশাসন বিভাগ। অপরদিকে স্কুল অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস এর অধীনে বিভাগগুলো হচ্ছে মেডিক্যালভূক্ত কলেজগুলো। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে আছেন প্রায় সাড়ে দশ হাজার শিক্ষার্থী এবং রয়েছেন প্রায় ৪শ’জন শিক্ষক।

নিয়মতি কোর্স ছাড়াও রয়েছে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড  ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধীনে সিসিএনএ ও পিজিডি কোর্স এবং ইংরেজি বিভাগের অধীনে ইএলপিসি কোর্স। উক্ত কোর্সগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও বাইরের শিক্ষার্থীরা  অংশগ্রহণ করতে পারেন। আগামী সেশন থেকে সিভিল এন্ড এনভায়রনমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে স্নাতক পাশকৃতরা দুই বছর মেয়াদী আন্তর্জাতিক মানের ডিজাস্টার এন্ড এনভায়রনমেন্টাল এর উপর হাতে কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কোর্স করে ডিগ্রি অর্জন করতে পারবে।

একাডেমিক কাউন্সিলের নীতিমালা অনুযায়ী সেমিস্টার সম্পন্ন করার জন্য ১৩ সপ্তাহের ক্লাস করার বিধান রয়েছে। প্রত্যেক বিভাগে ক্লাসে উপস্থিতির জন্য ১০ এবং প্রত্যেক কোর্সের জন্য দুইটি টার্মটেস্টে ১০ করে মোট ৩০  নম্বর  নির্ধারণ করা হয় ফাইনাল পরীক্ষার আগে।

শাবিতে প্রায় সকল বিভাগের পাঠদানের মাধ্যম হচ্ছে ইংরেজি। বছরে দুই সেমিস্টারে তথা জানুয়ারি-জুন ও জুলাই-ডিসেম্বর সেশনে শিক্ষাবর্ষ শেষ হয়। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে ফলাফল হয় গ্রেডিং পদ্ধতিতে। সিজিপিএ ৪.০০ কে এ+ ধরে নিচের দিকে প্রতি ৫ নম্বরে গ্রেডিং বিন্যাস করা হয়েছে। শাবিতে স্নাতক শ্রেণীতে মোট ১৪০ ক্রেডিট এবং স্নাতকোত্তর  শ্রেণীতে ৪০ ক্রেডিট সম্পন্ন করলেই সার্টিফিকেট মিলে। সিলেবাসের সবক্ষেত্রে বিশ্বের খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনুসরণ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে ৩২০ একর ক্যাম্পাসের পুরোটাই সৌন্দর্যের পরিচয় বহন করে। রয়েছে সারি সারি নানা প্রজাতির বৃক্ষ এবং  কারুকার্যময় দৃষ্টিনন্দন কেন্দ্রীয় মসজিদ। মসজিদের বিপরীত পাশে অতিথিখানা ও শিক্ষক ডরমেটরি।

শিক্ষার্থীরা জানালেন, মহাপরিকল্পনার যদিও তেমন কিছু বাস্তবায়ন হয়নি তারপরও পিছিয়ে নেই তাদের বিশ্ববিদ্যালয়। তারা চান শীঘ্রই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে এশিয়ার মধ্যে সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখতে।

Advertisement

শিক্ষা-এর সর্বশেষ খবর

প্রচ্ছদ জাতীয় বাণিজ্য খেলাধুলা তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা বিনোদন সাহিত্য-সংস্কৃতি ঐতিহ্য পর্যটন প্রবাসের সংবাদ এক্সক্লুসিভ সংগঠন সংবাদ মুক্তিযুদ্ধ আর্কইভস
Editor: Khaled Ahmed, SylhetNews24.com SNC Limited. Shah Forid Road. 30/3, Jalalabad R/A. Sylhet-3100. Bangladesh. Cell: +88 01711156789, +88 01611156789,
e-mail: [email protected], [email protected] Executive Editor: Mohammad Serajul Islam. cell:+88 01712 325665
All right ® reserved by SylhetNews24.com    Developed by eMythMakers.com & Incitaa e-Zone Ltd.