20 Nov 2018
Loading
 

প্রচ্ছদ

জাতীয়

বাণিজ্য

খেলাধুলা

তথ্যপ্রযুক্তি

শিক্ষা

বিনোদন

সাহিত্য-সংস্কৃতি

ঐতিহ্য

পর্যটন

প্রবাসের সংবাদ এক্সক্লুসিভ সংগঠন সংবাদ মুক্তিযুদ্ধ আর্কইভস
শিরোনাম:
Bread Crumbs

2011-04-08 05:23:56

জাফলংয়ে বনবিভাগের ৫৩৭ একর ভূমিতে গ্রীণ পার্ক হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার

সিলেটনিউজ২৪.কম

প্রকৃতি কন্যা হিসাবে সারাদেশে এক নামে পরিচিত সিলেটের জাফলং। খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জাফলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ লীলাভূমি।

পিয়াইন নদীর তীরে স্তর স্তরে বিছানো পাথরের স্তুপ জাফলংকে করেছে আকর্ষণীয়। সীমাস্তের ওপারে ভারতের পাহাড় টিলা, ডাউকি পাহাড় থেকে অবিরাম ধারায় প্রবাহমান জলপ্রপাত, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রীজ, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ হিমেল পানি,উঁচু পাহাড়ে গহিন অরণ্য ও শুনশান নিরবতার কারণে এলাকাটি পর্যটকদের দারুন ভাবে মোহাবিষ্ট করে। এসব দৃশ্যপট দেখতে প্রতিদিনই দেশী-বিদেশী পর্যটকরা ছুটে আসেন এখানে। এমনি প্রেক্ষাপটে জাফলংয়ে গ্রীণ পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সিলেট বনবিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এ ব্যাপারে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় ৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। সিলেট বন বিভাগের ৫৩৭ একর ভূমির ওপর এ পার্ক স্থাপিত হবে। সিলেট-৪ আসনের এমপি ইমরান আহমদ সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

জানা গেছে, চলতি ২০১১ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। প্রকল্পের আওতায় পর্যটকদের জন্য উন্নত মানের রিসোর্ট, আর সি, সি আম্রেলা, পার্কের ভেতরে চলাচলের রাস্তা, বিশুদ্ধ পানি, পাহাড়ের উপরে গাড়ি পার্কিং, পিকনিক সেন্টারে এক সাথে ৪শ লোকের খাবার ব্যবস্থা সহ উন্নত ও আধুনিক সুযোগ সুবিধা থাকবে।

সিলেট নগরী থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর পূর্ব দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলার অপরুপ সৌন্দর্যমন্ডিত স্থানের নাম জাফলং। বাংলাদেশ এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তে জাফলংয়ের অবস্থান।

 জাফলংয়ে শীত ও বর্ষা মওসুমের সৌন্দর্যের রুপ ভিন্ন। বর্ষায় জাফলং এর রূপ লাবণ্য যেন ভিন্ন মাত্রায় ফুটে উঠে। ধূলি ধূসরিত পরিবেশ হয়ে উঠে স্বচ্ছ।স্গিন্ধ পরিবেশে শ্বাস-নি:শ্বাসে থাকে ফুরফুরে ভাব। খাসিয়া পাহাড়ের সবুজাভ চূড়ায় তুলার মত মেঘরাজির বিচরণ এবং যখন-তখন অঝোরধারায় বৃষ্টি পাহাড়ি পথ হয়ে উঠে বিপদসংকুল যেন এক ভিন্ন শিহরণ। সেই সঙ্গে কয়েক হাজার ফুট উপর থেকে নেমে আসা সফেদ ঝর্ণাধারার দৃশ্য যে কারোরই নয়ন জুড়ায়।

নৌকাযোগে শ্রমিকদের পাথর সংগ্রহ, খাসিয়া সম্প্রদায়ের বিচিত্র জীবন, জৈন্তা রাজবাড়ি, ডাউকি ও পিয়াইন নদী, সমতল চা বাগান, কমলা ও কাঁঠাল বাগান-জাফলংকে করেছে আরো আকর্ষণীয়। জাফলং পর্যটন স্পটের আলাদা আকর্ষণ খাসিয়া সম্প্রদায়। জাফলংকে ঘিরে রয়েছে ৫টি খাসিয়াপুঞ্জি। ছিমছাম ও পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনে অভ্যস্ত খাসিয়ারা। বাগানে উৎপাদিত পান,সুপারির ওপর খাসিয়াদের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। জাফলং এলাকার বল্লা, সংগ্রামপুঞ্জি, নকশিয়াপুঞ্জি, লামাপুঞ্জি ও প্রতাপপুর-এই ৫টি পুঞ্জিতে প্রায় আড়াই হাজার খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোক বসবাস করে।

বিআরটিসি বাস, স্থানীয় বাস কিংবা রিজার্ভ ভাড়ায় জাফলং যাতায়াত করা যায়। সিলেট জেলা পরিষদের উদ্যোগে সেখানে রেস্ট হাউস নির্মিত হয়েছে। ব্যক্তি উদ্যোগেও গড়ে উঠেছে কয়েকটি হোটেল।

ইতিহাস থেকে জানা গেছে, হাজার বছর ধরে জাফলং ছিল খাসিয়া জৈন্তা-রাজার অধীন নির্জন বনভূমি। ১৯৫৪ সালে জমিদারী প্রথা বিলুপ্তির পর খাসিয়া জৈন্তা রাজ্যের অবসান ঘটে। তারপরও বেশ কয়েক বছর জাফলংয়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পতিত পড়ে রয়েছিল। ব্যবসায়ীরা পাথরের সন্ধানে নৌ পথে জাফলং আসতে শুরু করেন। পাথর ব্যবসার প্রসার ঘটতে থাকায় গড়ে উঠে নতুন জনবসতিও। আশির দশকে সিলেটের সাথে জাফলং এর ৫৫ কিলোমিটার সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে জাফলংয়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের কথা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। দেশী-বিদেশী পর্যটকদের পাশাপাশি প্রকৃতিপ্রেমীরাও ভিড় করতে থাকেন জাফলংয়ে। জাফলং এখন দেশের সেরা পর্যটন স্পট।

Advertisement

ঐতিহ্য-এর সর্বশেষ খবর

প্রচ্ছদ জাতীয় বাণিজ্য খেলাধুলা তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা বিনোদন সাহিত্য-সংস্কৃতি ঐতিহ্য পর্যটন প্রবাসের সংবাদ এক্সক্লুসিভ সংগঠন সংবাদ মুক্তিযুদ্ধ আর্কইভস
Editor: Khaled Ahmed, SylhetNews24.com SNC Limited. Shah Forid Road. 30/3, Jalalabad R/A. Sylhet-3100. Bangladesh. Cell: +88 01711156789, +88 01611156789,
e-mail: [email protected], [email protected] Executive Editor: Mohammad Serajul Islam. cell:+88 01712 325665
All right ® reserved by SylhetNews24.com    Developed by eMythMakers.com & Incitaa e-Zone Ltd.