21 Nov 2018
Loading
 

প্রচ্ছদ

জাতীয়

বাণিজ্য

খেলাধুলা

তথ্যপ্রযুক্তি

শিক্ষা

বিনোদন

সাহিত্য-সংস্কৃতি

ঐতিহ্য

পর্যটন

প্রবাসের সংবাদ এক্সক্লুসিভ সংগঠন সংবাদ মুক্তিযুদ্ধ আর্কইভস
শিরোনাম:
Bread Crumbs

2011-03-31 19:55:23

অধ্যাপক হারুন হত্যাকান্ডের চার্জশিট দাখিল হচ্ছে
কলেজ ছাত্রী মুন্নী ও তার প্রেমিক কাউসারসহ ৬ জন আসাম

সিলেট অফিস

সিলেটনিউজ২৪.কম

সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের দর্শন বিভাগের প্রধান বহুল আলোচিত অধ্যাপক হারুন অর রশীদ হত্যা মামলার চার্জশিট শিগগিরই আদালতে দাখিল হচ্ছে। হত্যাকান্ডের মূল নায়িকা কলেজ ছাত্রী সূজিনা আক্তার মুন্নী ও তার প্রেমিক আব্দুল লতিফ কাউসারসহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ(সিআইডি) এ চার্জশিট দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রণীত সাক্ষ্য স্মারকলিপিতে এরই মধ্যে সিআইডির সিলেট জোনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও সিলেটের পিপি তাদের মতামত দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

জানা  গেছে, চার্জশীটে আব্দুল লতিফ কাউসার, সুজিনা আক্তার মুন্নী, সাফিয়া খাতুন লিপি, রাসেল আহমদ, আলিমুল ইসলাম ও হোটেল ম্যানেজার লোকমান মিয়াকে আসামী করা হচ্ছে।

২০১০ সালের ২১ মার্চ বিকেল পৌনে ৩ টায় নগরীর চৌহাট্টা নিলয় ৫৪/৩ বাসার সম্মুখের রাস্তায় খুন হন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হারুনুর রশীদ। নিহত হারুনুর রশীদ ওই বাসায় ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করতেন। পরদিন সোমবার নিহতের শ্যালক ও ঢাকার ধামরাই থানার টোলের এলাকার আল আজিম সরকার কোতয়ালী থানায় অজ্ঞাতনামা দুস্কতকারীদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৩০২/৩৪  ধারায় একটি হত্যা মামলা তাদের করেন। প্রথমে কোতয়ালী থানার এস আই হারুন মজুমদারকে মামলার তদন্দের দায়িত্ব দেয়া। এরপর থানার তখনকার ওসি (পরবর্তীতে স্ট্যান্ড সিরিজ প্রাপ্ত) মোহাম্মদ আলী ও মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক ইন্তেজার রহমান মামলার তদন্ত করেন। এরপর স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে (সিআইডি সদর দপ্তর মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডির সিলেট জোনের পরিদর্শক মুহিদুর রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ওইদিনই মামলাটি এসএমপির গোয়েন্দা শাখা থেকে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।

সূত্র জানায়, নিহত অধ্যাপক অধ্যাপক হারুন তার ভাড়া করা বাসায় নিজ বিভাগের ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়াতেন। এর ফলে ছাত্রীদের প্রতি তার নজরদারীও ছিল। মুন্নীকে পড়ার একটি সিট দেন অধ্যাপক হারুন। ২০১০ সালের ১৯ মার্চের আগে নিহতের বাসায় কয়েকজন মেহমান আসে। নিহতের বাসায় রান্নার কোন বাসনপত্র না থাকায় তিনি মুন্নী ও লিপিকে তাদের বাসা থেকে রান্না করার বাসনপত্র এনে দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। ওই দুই ছাত্রী রান্না করে দেয়। ১৯ মার্চ বেলা আড়াইটায় বাসনপত্র আনার জন্য তারা নিহতের বাসায় যায়। এ সময় অপর এক ছাত্রী বাসায় প্রাইভেট পড়ছিল। বাসনপত্র গোছানোর সময় ওই ছাত্রী চলে যাওয়ার জন্য মুন্নী-লিপির কাছে একটি রিক্সা পাঠানোর জন্য বলেন অধ্যাপক হারুন। এ সময় বাসার রুমের দুটি রুমে বসা ছিল মুন্নী ও লিপি। অধ্যাপক হারুন তখন দুছাত্রীকে বিস্কুট বের করে দেন। অধ্যাপক হারুন মুন্নীর সাথে অশালীন আচরণ করলে তারা দুজন বাসার নিচে চলে যায়। অধ্যাপক পেছন থেকে ডাকলেও তারা শুনেনি। জালালাবাদ পয়েন্টে ওই ছাত্রীকে রিক্সা থেকে নামিয়ে দিয়ে মুন্নী তার প্রেমিক কাউসারকে বিষয়টি জানায়। এরপর মুন্নী ও লিপি অধ্যাপকের বাসায় আর প্রাইভেট পড়তে যায়নি। ২১ মার্চ বেলা দেড়টায় লিপিকে সাথে করে মুন্নী মেডিক্যাল চেক আপের জন্য মেডিক্যাল রোডের মেডিল্যাবে যায়। সেখানে লিপির প্রেমিক আলিমুলকেও বিষয়টি জানানো হয়। ল্যাবে থাকা অবস্থায়ই মুন্নী মিরের ময়দানে এসে কাউসারকে দেখা করতে বলে। এরপর মুন্নী লিপি অধ্যাপক হারুনের বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। অধ্যাপক হারুন সে সময় কলেজে একটি অনুষ্ঠানে ছিলেন। মুন্নি-লিপির পেছনে যায়-কাউসার, আলিমুল ও রাসেল। মুন্নী তাদেরকে অধ্যাপকের বাসাটি দেখিয়ে দেয়। ঘটনার সময় অধ্যাপক হারুনকে দেখে মুন্নী ৫৬/১ নিলয় ছাদ ভিলার বাসার গেটের ভিতরে চলে যায়। লিপি অধ্যাপক হারুনের বাসার সিঁড়ির পেছনে লুকিয়ে থাকে। এর আগেই একটি সিঁড়ির পেছনে অবস্থান নেয় কাউসার, আলিমুল ও রাসেল। অধ্যাপক হারুন বাসার গেটের ভেতরে প্রবেশ করা মাত্র ৩ ঘাতক তাকে তাকে টেনে হিঁচড়ে গেটের বাইরে নিয়ে যায়। রাসেলের হাতে থাকা লাঠি দিয়ে অধ্যাপক বেধড়ক পেটাতে থাকে। অধ্যাপক হারুন তখন দুই হাত জোড় করে মাফ চান। রাসেল ও আলিমুল পিটিয়ে তাকে মাটিতে ফেলে দেয় এবং কাউসার ধারালো ছোরা দিয়ে অধ্যাপক হারুনের ডান উরুতে আঘাত করে। মুহুর্তে ঘটনাস্থল রক্তে রঞ্জিত দেখে ঘাতকরা দ্রুত পালিয়ে যায়। বিকেল ৩টা ৫০টা মিনিটে ওসমানী হাসপাতালে মারা যান অধ্যাপক হারুন।

পুলিশ এ ঘটনায় ছাত্রদল নেতা জামাল আহমদ ওরফে কালা জামাল, দুলাল আহমদ ও আতাউল গণি উমনকে গ্রেফতার করে। তাদেরকে গ্রেফতারের পর র‌্যাব-৯ এর সদস্যরা নিহতের ছাত্রী সুজিনা আক্তার মুন্নী, সাফিয়া খাতুন লিপি, রাসেল আহমদ, আলিমুল ইসলাম ও হোটেল ম্যানেজার লোকমান মিয়াকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পালিয়ে যায় মুন্নীর প্রেমিক আব্দুল লতিফ কাউসার। র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়া মুন্নী ও লিপি হত্যাকান্ডে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে। কাউসার,, আলিমুল ও রাসেলের নাম উল্লেখ করে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। মামলার তদন্তকারী ৪ কর্মকর্তাই দাবি করেছিলেন-কাউসার পালিয়ে গেছে। কিন্তু গত ২৫ নভেম্বর সুনামগঞ্জের চিনাকান্দি এলাকা থেকে র‌্যাব তাকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া সকল আসামী জামিনে রয়েছে। প্রায় সাড়ে ৬ মাস ধরে তদন্তের পর মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিলের লক্ষ্যে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য স্মারকলিপি প্রস্তুত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। সিআইডি সিলেট জোনের সহকারী পুলিশ সুপার ২৬ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য স্মারকলিপিতে তার মতামত দেন। এরপর ১৫ মার্চ মতামত দেন সিলেটের পাবলিক প্রসিকিউট। তাদের মতামতে তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে একমত পোষণ করা হয়।

মামলার আইও জানান, মামলার নথিপত্র ও স্বাক্ষ স্মারকলিপি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ২-৩ দিনের এটি পুলিশ সদর দফতরের অনুমোদন পাবে। এরপরই অভিযোগপত্র দ্রুত সম্ভব দাখিল করা হবে বলে তিনি জানান।

অধ্যাপক হারুনের স্ত্রী জানান, তিনি তার স্বামী হত্যার ন্যায় বিচার চান।

Advertisement

জাতীয়-এর সর্বশেষ খবর

প্রচ্ছদ জাতীয় বাণিজ্য খেলাধুলা তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা বিনোদন সাহিত্য-সংস্কৃতি ঐতিহ্য পর্যটন প্রবাসের সংবাদ এক্সক্লুসিভ সংগঠন সংবাদ মুক্তিযুদ্ধ আর্কইভস
Editor: Khaled Ahmed, SylhetNews24.com SNC Limited. Shah Forid Road. 30/3, Jalalabad R/A. Sylhet-3100. Bangladesh. Cell: +88 01711156789, +88 01611156789,
e-mail: [email protected], [email protected] Executive Editor: Mohammad Serajul Islam. cell:+88 01712 325665
All right ® reserved by SylhetNews24.com    Developed by eMythMakers.com & Incitaa e-Zone Ltd.