20 Sep 2018
Loading
 

প্রচ্ছদ

জাতীয়

বাণিজ্য

খেলাধুলা

তথ্যপ্রযুক্তি

শিক্ষা

বিনোদন

সাহিত্য-সংস্কৃতি

ঐতিহ্য

পর্যটন

প্রবাসের সংবাদ এক্সক্লুসিভ সংগঠন সংবাদ মুক্তিযুদ্ধ আর্কইভস
শিরোনাম:
Bread Crumbs

2014-06-09 17:10:29

চাঁদা দিতে হবে- না হলে ক্যাম্পাস ছাড়তে হবে :ছাত্রলীগের চাঁদাবাজীর শিকার হয়েই লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলো তাওহীদ

বিশেষ প্রতিনিধি

সিলেটনিউজ২৪.কম

আর মাত্র দুবছর পেরোলেই মা-বাবার স্বপ্নের কাছাকাছি পৌছে যেত তাওহীদ।কিন্তু ওসমানী মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের চাঁদাবাজীর শিকার হয়েই ডাক্তার হতে এসে লাশ হয়ে  বাড়ি ফিরলো তাওহীদ।

সে মরে গিয়ে উম্মোচন করে গেল মেডিকেল ক্যাম্পাসে নির্মম নির্যাতন ও অনৈতিক কর্মকান্ডের এক বর্বর ইতিহাস।যেখানে ক্লাশ করতে হলে,পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে  প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতাদের প্রতি সেমিষ্টারে,প্রতি ইয়ারে নিদিষ্ট অংকের চাঁদা দিতে হয়,তোয়াজ করতে হয়।
এসব নিরবে মানতে হবে-না হয় ক্যাম্পাস ছাড়তে হবে।মুখ বুজে অনেকেই এব সহ্য করছে,চাঁদা দিচ্ছে ভবিষ্যত জীবনের কথা চিন্তা করে।মেডিকেল সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

`ডাক্তার হলেতো রুজি করবা,তাই আমাদের পাপ্য এখন মিটিয়ে দাও,না হলেতো ডাক্তার হবার সুযোই পাবানা `। `তোমরা ক্ষমতায় আসলে আমরাও এভাবে চাঁদা দিয়ে ডাক্তার হব`।

জানা যায়, রিরোধী শিবিরের যত বড় নেতা হোক না কেন,ক্যাম্পাসে ঢুকতে হলে,পরীক্ষা দিতে হলে চাঁদা তাকে দিতেই হবে।স্বাধীনতা বলতে কোন জিনিষ সেখানে নেই।নেতাদের নির্দেশ যেখানে আইন।ব্যতিক্রম হলে ইয়ার লস, নাহলে শারিরীক.মানসিক নির্যাতন।৪র্থ বর্ষের ছাত্র তাওহীদুল ইসলামের ক্ষেত্রেও ঘটেছে একই ঘটনা।

যেহেতু তাওহীদ প্রতিপক্ষ ছাত্রদলের নেতা,একজন ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে তাই তার কাছে  চাঁদা চাওয়া হয়েছিল মাত্র দু`লাখ টাকা ।কোন উপায় নেই,চাহিদা মেটাতেই হবে।তাওহীদও তাদের চাহিদা মেটাতে   চেয়েছিল,তাই ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করে দিয়েছিল।বাকি রয়েছিল আরো দেড় লাখ টাকা।

অপেক্ষা সইছিলনা চাঁদাবাজদের।টাকাটা যাতে তাড়াতাড়ি দেয় সেজন্য সাইজ করতে ঢেকে নিয়ে আসা হয় ক্যাম্পেে(রোম নম্বর ১০০৩)। সেই বাকি রয়ে যাওয়া দেড় লাখ টাকার জন্যই প্রাণ দিতে হলো ওসমানী মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলামকে।

চাঁদার টাকার জন্যই তাওহীদকে হত্যার চাঞ্চল্যকর এইসব তথ্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের প্রধান সেনাপতি সৌমেন দেও রোববার সিলেট মহানগর ম্যজিস্ট্রেট মো. শাহেদুল করিমের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন বলে জানা গেছে।

সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, ছাত্রদলকর্মী তাওহীদুল ইসলাম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ওসমানী মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি সৌমেন দে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছে- ‘আমরা তাওহীদুল ইসলামের কাছে দুই লক্ষ টাকা চাঁদা চেয়েছিলাম। সে পঞ্চাশ হাজার টাকা পরিশোধ করেছিল। বাকি দেড় লক্ষ টাকা কথামতো না দেয়ায় তাকে ডেকে এনে পিটানোর পর সে গুরুতর আহত হয়ে পড়লে তাকে ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

ওসি আরো বলেন, সৌমেন দে’ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার সাথে জড়িত ও তার সহযোগীদের নাম বলেছে।শাখা ছাত্রলীগের  সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হাই, সাংগঠনিক সম্পাদক মোশফেকুজ্জামান আকন্দ রাফি, হাফিজুর রহমান, ফারহান আনজুম পাঠান, অন্তর দ্বীপ, শরিফুল ইসলাম, জহুর রায়হান রিপন, আবু সাহাল ফাহিম, জুবায়ের ইবনে খায়েজসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করেছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার সন্ধ্যারাতে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের আবু সিনা ছাত্রাবাসের ১০০৩ নম্বর কক্ষে ওসমানী মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ৪র্থ বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রদলের আপ্যায়ন সম্পাদক তৌহিদুল ইসলামকে পিটিয়ে হত্যা করে চাঁদাবাজ দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার তার চাচা আনোয়ার হোসেন মাতব্বর কোতোয়ালী থানায় মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের ১০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৮-১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সৌমেন দে গ্রেফতার করা হয়।রোববার সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

Advertisement

এক্সক্লুসিভ-এর সর্বশেষ খবর

প্রচ্ছদ জাতীয় বাণিজ্য খেলাধুলা তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা বিনোদন সাহিত্য-সংস্কৃতি ঐতিহ্য পর্যটন প্রবাসের সংবাদ এক্সক্লুসিভ সংগঠন সংবাদ মুক্তিযুদ্ধ আর্কইভস
Editor: Khaled Ahmed, SylhetNews24.com SNC Limited. Shah Forid Road. 30/3, Jalalabad R/A. Sylhet-3100. Bangladesh. Cell: +88 01711156789, +88 01611156789,
e-mail: [email protected], [email protected] Executive Editor: Mohammad Serajul Islam. cell:+88 01712 325665
All right ® reserved by SylhetNews24.com    Developed by eMythMakers.com & Incitaa e-Zone Ltd.