15 Nov 2018
Loading
 

প্রচ্ছদ

জাতীয়

বাণিজ্য

খেলাধুলা

তথ্যপ্রযুক্তি

শিক্ষা

বিনোদন

সাহিত্য-সংস্কৃতি

ঐতিহ্য

পর্যটন

প্রবাসের সংবাদ এক্সক্লুসিভ সংগঠন সংবাদ মুক্তিযুদ্ধ আর্কইভস
শিরোনাম:
Bread Crumbs

2016-11-10 16:06:00

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: টুকরো টুকরো স্মৃতি

সৈয়দ সেলিম মো. আব্দুল কাদির(সেলিম সৈয়দ)

সিলেটনিউজ২৪.কম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর ২০১৬। এ আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আমার প্রাণ ঢালা শুভেচ্ছা।
বিশ্ববিদ্যালয় কে নিয়ে অনেক কথা অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে। ভালোলাগা- ভালবাসার এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত বছরের অনেক স্মৃতি - যা বলার মত ভাষা নেই। তবে চেষ্টা করে দেখতে অসুবিধা কি?

আমাদের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা বিভাগ ভিত্তিক থাকায় আমার মত অনেকেই একাধিক বিভাগে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অনার্স প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়। ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথম ভর্তির ফল প্রকাশ হলে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির জন্য ফরম পূরণ করি। কিন্তু প্রথমেই ভাইয়ের বাধায় এ কার্যক্রম আটকে যায়।

লিখিত পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়ে হাজির হলাম লোক প্রশাসন বিভাগে ভর্তির আশায় মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য। এখানে আবার বিভাগের চেয়ারম্যান স্যার এর সামনে হাজির হতেই নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। ওয়াহাব স্যার আমাকে আপাদমস্তক দেখে বলে উঠলেন তোমাকে ভর্তি করা যাবে না। এ বিভাগে তোমার মত ছাত্রের জন্য নয়। প্রশ্ন না করেই বলে বসলেন চলে যাও। সাহস করে প্রশ্ন করার অনুরোধ করলে অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রশ্ন করেন। ভাল উত্তর দিতে পারলেও, বলে বসলেন তোমার মত ছাত্র আমরা ভর্তি করিনা, কথাটি শুনে মন খারাপ হয়ে গেল। কিন্তু ফল প্রকাশ হলে আমি মেধা তালিকায় আছি দেখে মন খুশিতে ভরে যায়। মৌখিক পরীক্ষায় নার্ভাস করার জন্য হয়ত স্যার এর এ আচরণ।

ক্লাশ শুরু হলো। আহা কি যে আনন্দ! বন্ধুদের সাথে পরিচয় হতে থাকল, স্যারদের সাথে পরিচয় হল খুব ভাল সময় যেতে লাগল। এভাবে অনার্স ও মাস্টার্স মিলিয়ে সাতটি বছর কেটে গেল। বিভাগে ছাত্র থাকা অবস্থায় মজার মজার কিছু স্মৃতি আজও মনে পড়ে। একবার দেখা গেল, একজন স্যার ক্লাশে আসছেন না। দল বেধে স্যার এর রুমে দেখা করতে গেলে বলে বসলেন,“ আমাকে তোমরা এখন ডিস্টার্ব করনা”। পরে জানতে পারলাম স্যার বিয়ের জন্য কনে চয়েস নিয়ে ব্যস্ত আছেন। স্যার এর নাম এখন মনে আছে, সঙ্গত কারণে নাম উল্লেখ করা গেল না। তবে স্যারদের নজরদারির কারণে আমরা খুব একটা ক্লাশ ফাঁকি দেয়ার সুযোগ পেতাম না।

অনার্স শেষে মাস্টার্স এ উঠার পর বন্ধুদের তালিকা বিস্তৃত হল। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ থেকে অনার্স শেষ করে অনেক বন্ধুই আমাদের সাথে মাস্টার্স এ যুক্ত হয়। বিভাগ থেকে আবার শিক্ষা সফরকে কেন্দ্র করে ঘটত মজার মজার ঘটনা। আমি সব সময় ব্যতিক্রমধর্মী কাজ করে আলোচনায় আসতাম। শিক্ষা সফরে গেলে ক্লাশ এর ছেলে মেয়ে সবাই একত্রে ছবি তুলবে এটাই স্বাভাবিক। একবার আমি করলাম উল্টো কাজ কোন মেয়ে বন্ধুর সাথে ছবি তুললাম না। বিষয়টি রুহুল আমিন স্যার এর নজরে গেলে তিনি এর কারণ জিজ্ঞেস করেন। আমি খুব ভাব নিয়ে আমাকে একাকী ছবি তুলে দেয়ার অনুরোধ করে বসি। স্যার খুব স্বাভাবিক ভাবে ছবি তুলে দিলেন। বিষয়টি নিয়ে পরে আমাকে নানা কথা শুনতে হয়েছে।

ভালই কাটছিল বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। বিদায়ের সময় এসে গেল। র‌্যাগডের মাধ্যমে জমজমাট পূর্ণ বিদায় উৎসব হয়। বন্ধুদের ভালবাসায় শাহ আমানত হলের সমাপনী উৎসব কমিটির আহবায়ক হয়ে যাই।

র‌্যাগ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হয় সমাপনী উৎসব। শিল্পী মাকসুদ এর কণ্ঠে “মেলায় যাইরে” গান আজও ভোলার নয়। ২১ তম ব্যাচের বন্ধুদেরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের কথা আজও মনে পড়ে।

বিদায় বেলায় বন্ধুদের স্মৃতি কথায় ডায়েরির পাতা ভরে গেল। যা আজও অনেকের মতো আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। লোক প্রশাসন বিভাগের বন্ধুদের কিছু স্মৃতিকথা তুলে ধরা সমীচীন মনে করছি।

তোমার মধুর সহচার্যের কথা চিরদিন মনে থাকবে।
শাহজাহান হাফেজ ভূইয়া

আমার শিক্ষা জীবনের সঙ্গী হিসাবে
তোমার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।
পারভীন ইসমত
১৫-১২-৯২

ভালবাসার বিকল্প নাই।

সাইফুদ্দিন সেলিম
১৫-১২-৯২

অনেকদিন পর যদি দেখা হয়
দুজনে থমকে দাঁড়াবো
তারপর জড়িয়ে ধরে যেন
বলতে পারি “ভাল আছি খুব ভালো”।

দাউদ
১৫-১২-৯২

চলার পথে দেখা হবে
আশা রাখি তখন যেন
চিনতে পার।
জেবা
১৫-১২-৯২

“রিক্ত আমি, ছিন্ন আমি, দেবার কিছুই নাই
মনে রেখো ভালোবাসা, এইটুকুই চাই”।

কামরুল হাসান খান
১৫-১-৯৩
জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত
মধুময় হউক
এই কামনায়।
আহমদ কবির আজাদ
১৫-১২-৯২

তোমার শুভ কামনায়
ফেলে আসা দিন গুলির
কথা মনে রেখ।
মধুমিতা চৌধুরী
১৫-১২-৯২

পুকুরে ছোঁড়া টিলের মত
আমার আনন্দগুলি ঢেউ
না তুলতেই মিলিয়ে যায়।

মিন্টু চক্রবর্তী
চট্টগ্রাম

অনেক মধুর স্মতির কথা লিখে ফেললাম। বন্ধুদের ভালোবাসা তা কি সহজে ভোলা যায়।
ডায়েরি পড়তে গিয়ে থমকে গেলাম। একি বন্ধু রফিক এর লেখাও আছে আমার কাছে। বন্ধুটি ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করার কিছুদিন এর মধ্যে আমাদের থেকে চলে গেছে না ফেরার দেশে। আমার ডায়েরিতে লিখে গেছে ....

মনে কর যদি সব ছেড়ে হায়
চলে যেতে হয় কখনও আমায়
মনে রবে কি তখন ও আমায়।

রফিকুল
জেলা- নীলফামারী

বিদায় লগ্নে বিভাগের স্যারদের ভালবাসা পেয়েছি
জীবনে সফলতা, সমৃদ্ধি
সুস্বাস্থ্য ও সুখ কামনা করছি।
অধ্যাপক আব্দুর নূর
১৭-১২-৯২

আমাদের এই প্রিয় স্যার বেশ ক’বছর হল মৃত্যুবরণ করেছেন।

স্মৃতি হাসায়, স্মৃতি কাঁদায়, স্মৃতির আল্পনা একে আমরা বেঁচে থাকি সুখ ও দু:খে। স্বপ্ন রঙিন দিন ফুরিয়েছে অম্লান হয়ে আছে হাজারো অমর স্মৃতি।

Advertisement

শিক্ষা-এর সর্বশেষ খবর

প্রচ্ছদ জাতীয় বাণিজ্য খেলাধুলা তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা বিনোদন সাহিত্য-সংস্কৃতি ঐতিহ্য পর্যটন প্রবাসের সংবাদ এক্সক্লুসিভ সংগঠন সংবাদ মুক্তিযুদ্ধ আর্কইভস
Editor: Khaled Ahmed, SylhetNews24.com SNC Limited. Shah Forid Road. 30/3, Jalalabad R/A. Sylhet-3100. Bangladesh. Cell: +88 01711156789, +88 01611156789,
e-mail: [email protected], [email protected] Executive Editor: Mohammad Serajul Islam. cell:+88 01712 325665
All right ® reserved by SylhetNews24.com    Developed by eMythMakers.com & Incitaa e-Zone Ltd.