ঢাকা, ২০ জুন, ২০১৯
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে ইইউ প্রতিনিধিদলের উদ্বেগ পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ জারদারি গ্রেফতার ৪০ লাখ ঘুষ: দুদক পরিচালক এনামুল বাসির সাময়িক বরখাস্ত ওসি মোয়াজ্জেমকে খুঁজেই পাচ্ছে না পুলিশ!

র‌্যাগিংয়ের নামে ছাত্রীকে যৌন হয়রানি: প্রতিবাদে উত্তাল শাবি,৫ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি ২০১৬  

র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

র‌্যাগিংয়ের নামে এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করা হয়েছে এমন অভিযোগে রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দফায় দফায় বিক্ষোভ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।এসময় তারা র‌্যাগিংমুক্ত শাবি ক্যাম্পাসের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় পাঁচ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কামরুজ্জামান চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত পাঁচ শিক্ষার্থীরা হলেন- কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মো. মোশাররফ হোসেন রাজু, গনিত বিভাগের প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী নজরুল ইসলাম, মোশারফ হোসেন ও মাহমুদুল হাসান এবং সমাজকর্ম বিভাগের তৃতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী অসীম বিশ্বাস।

র‌্যাগিংয়ের নামে যৌন হয়রানির প্রতিবাদে সকাল ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ‘ভালবাসি শাবিপ্রবি, ঘৃণা করি র‌্যাগিং’, ‘র‌্যাগিংয়ের নামে নিপীড়ক কিভাবে ছাত্র হয়’, ‘নির্যাতনকারীদের আজীবন বহিষ্কার চাই’ এমন ফেস্টুন হাতে র‌্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যনারে সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থী ।

মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ র‌্যালী বের করে, র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে লাইব্রেরী বিল্ডিং এর সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা ‘বিশ^বিদ্যালয়ে র‌্যাগিং নামক হয়রানি নিষিদ্ধের কার্যকর’ এবং ‘অভিযুক্তদের সবোর্চ্চ শাস্তি দাবি করে।

তাদের দাবী করে ক্যাম্পাস এলাকায় শিক্ষার্থীদের সাথে র‌্যাগিংয়ের নামে হয়রানি যেন না করা হয়। ছাত্রীদেরকে র‌্যাগিংয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি যৌন হয়রানির পর্যায়ে যাচ্ছে কি না সেটাও ক্ষতিয়ে দেখার দাবি সাধারণ শিক্ষার্থীদের। এক্ষেত্রে নিপীড়ক যেই হোক তার স্থান এ ক্যাম্পাসে নয় বলেও মতামত দেয় অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীরা বলেন, একটা মেয়ে তাকে কতটুকু র‌্যাগিং করা হইলে সে সেন্সলেস হয়ে পড়ে! আমরা এই র‌্যাগিং চাই না। র‌্যাগিংয়ের নামে নিপীড়নকারীকে অবশ্যই শাস্তি দিতে হবে। এসময় র‌্যাগিংয়ের প্রতিবাদ করায় সিনিয়র শিক্ষার্থীদের উপর জুনিয়র শিক্ষার্থীদের হামলার বিচারও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়।


প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার শাবিতে গণিত বিভাগের প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের কতিপয় শিক্ষার্থী একই বিভাগের এক ছাত্রীকে র‌্যাগিং করে। এতে সে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় ক্যাম্পাসে ছাত্রদের দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল কমিটি র‌্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের বহিষ্কারের জন্য ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে সুপারিশ করেছে। সুপারিশ অনুযায়ী ঘটনার সঙ্গে প্রাথমিকভাবে ৫ জনের সংশ্লিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

এছাড়া এ ঘটনায় পুর ও পরিবেশ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক জহির বিন আলমকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করার কথ বলা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক আমিনা পারভীন ও অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক মুন্সি নাসের ইবনে আফজাল।

আরও পড়ুন
শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত