ঢাকা, ২৪ মার্চ, ২০১৯
SylhetNews24.com
শিরোনাম:
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে গাড়ি থেকে ফেলে হত্যা! শ্বশুর বাড়িতে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হাতে জামাতা খুন শ্বশুর বাড়িতে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হাতে জামাতা খুন ৬ দফা দাবিতে সিলেট বিমান অফিসে আটাবের গণঅবস্থান ২৫ মার্চ শাবি ছাত্রলীগ নেতার মাথা থেঁতলে দিয়েছে প্রতিপক্ষ ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাহী কমিটির সভা: দায়িত্ব নিলেন নুর-রাব্বানী ফলোআপ: অভাবের যাতনা ও ক্ষোভে বীর মুক্তিযোদ্ধা জলফে আলীর আত্বহত্যা! নৌকা আর বিদ্রোহী মিলে সিলেট জেলার ১২ উপজেলাই আ`লীগের

ডেটলাইন মেলবোর্ন: উজ্জ্বীবিত বাংলাদেশ, আরেকটি ইতিহাসের প্রতীক্ষা

খালেদ আহমদ *

প্রকাশিত: ১৮ মার্চ ২০১৫   আপডেট: ১৯ মার্চ ২০১৫

খালেদ আহমদ *

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে বৃহস্পতিবার এক অন্য রকম দিন। এই দিনটি কেবলই নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার। ইতিহাসের আরো উচ্চতায় নিজেদের পৌঁছে দেয়ার। নেই কিছুই হারানোর।

ইতোমধ্যে ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে নতুন ইতিহাস লিখেছে টাইগাররা। তাই এ মুহূর্তে ক্রিকেট বিশ্বে সবচেয়ে উজ্জ্বীবিত জাতির নাম বাংলাদেশ।

ভুলে যাবেন না বাংলাদেশ স্কোয়াডে থাকছে বৈচিত্র্যময় আট বোলার। অবশ্য টাইগারদের শক্তির আসল রহস্য ফাঁস করে ভারতের ওপর চাপের মাত্রাটা বাড়িয়েই দিয়েছেন বাংলাদেশের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে- ‘ব্যর্থ হতে হবে, এই ভয়টাই নেই বাংলাদেশ দলে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় নতুন ইতিহাস লেখার অদম্য স্পৃহা নিয়েই মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে নামবে বাংলাদেশ। এই প্রথম বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে বড় ম্যাচ খেলতে যাওয়া টাইগারদের উত্তেজনাও অন্যরকম।

দল বেঁধে খেলা দেখার জন্য চলছে নানা আয়োজন। পাড়া-মহল্লায় চলছে জায়ান্ট-স্ক্রিনে খেলা দেখার আয়োজন। আর মাঠের লড়াইয়ের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, বিজয় প্রত্যাশী জাতি যে বিজয় উদ্‌যাপনের আয়োজন করে রেখেছে তা বলাই বাহুল্য।

বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনালের সম্পূর্ণ ম্যাচ দেখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য তার আগামীকাল বৃহস্পতিবারের সব কর্মসূচি স্থগিত করেছেন।

সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবারের কার্যতালিকায় কেবল খেলাকে ঠাঁই দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। নিরবচ্ছিন্নভাবে তিনি খেলা দেখবেন বলে জানা গেছে।

তবে বিশ্বকাপের শেষ ৪ মানে সেমিফাইনাল নিশ্চিতের এই লড়াইয়ে বাংলাদেশের কঠিন প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। পরিসংখ্যানের হিসেবে ভারত ফেভারিট এটা অস্বীকার করছে না বাংলাদেশ। এ আসরের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের র‌্যাঙ্কিংও সবার নিচে।

 

অবশ্য মাঠের লড়াইয়ে পরিসংখ্যান যে সব সময় কাজে দেয় না তা সবার জানা। আর দলটি যদি মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বে ‘জায়ান্ট কিলার’ বাংলাদেশ হয় তা হলে তো কথাই নেই। তাই তো ক্রিক-ইনফোর শিরোনাম- ‘জায়ান্ট’ ভূ-পাতিত করার লক্ষ্যে নিশানা তাক বাংলাদেশের।

ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ দলের সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেছেন, ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের হারানোর কিছু নেই। আমরা ম্যাচ নিয়ে মোটেই ভীত নয়, ভয়-ডরহীন ক্রিকেট সবাই দেখতে পাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা ভারতের চ্যালেঞ্জ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

অবশ্যই কাগজে-কলমে বাংলাদেশের চেয়ে ভারত এগিয়ে। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এটি এক ম্যাচের খেলা। যদি দিনটা আমাদের হয় আর তাদের খারাপ হয়, তবে কেউ জানে না কী হবে।’

আট বছর আগে, ‘ভারতকে ধরে দিবানি’ মন্ত্রে পোর্ট অব স্পেনে গর্জে উঠেছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। সেদিন ‘নড়াইল এক্সপ্রেসে’র সামনে রীতিমতো টালমাটাল ছিলেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। ৯.৩ ওভারে ৩৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন মাশরাফি।

এ বিশ্বকাপে শেষ আটের যুদ্ধে আবারও বাংলাদেশ-ভারত লড়াই। ২০০৭ বিশ্বকাপের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে পারবে মাশরাফির দল?

মাঠের লড়াইয়ের আগে বাংলাদেশ ও ভারতের সমর্থকদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতোমধ্যে লড়াই শুরু হয়ে গেছে। পেপসির আপত্তিকর মওকা বিজ্ঞাপন দিয়ে এই লড়াইয়ের সূচনা করেন ভারতীয় সমর্থকরাই। তবে তাদের অপমান না করলেও জবাব দিতে দেরি করেননি টাইগার সমর্থকরা।

আর মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশ যে কম যাবে না তার কারণ প্রেরণার বাতিঘর মাশরাফি। তার মাঠে থাকা মানে প্রতিটি মুহূর্তে লড়াইয়ে থাকা। এছাড়া মাশরাফির নাম শুনলে ভারতীয়দের কলিজা কেঁপে ওঠে, জেগে ওঠে পুরনো ক্ষতের ব্যথা।

ভারতের রোহিত-ধাওয়ান-কোহলির পর রায়না-জাদেজা-ধোনিকে নিয়ে গড়া ব্যাটিং লাইনআপটা শক্তিশালীই বটে। তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের তামিম-ইমরুল-সৌম্যের পর সাকিব-মাহমুদুল্লাহ-মুশফিককে নিয়ে গড়া ব্যাটিং লাইনকে কে সমীহ করবে না?

বোলিংয়ে গতির লড়াইয়ে সামি-যাদব-মোহিতের বিপরীতে রয়েছেন মাশরাফি-রুবেল-তাসকিন। স্পিনে অশ্বিন-জাদেজার বিপরীতে লড়বেন সাকিব-মাহমুদুল্লাহ। বাড়তি হয়ে আসতে পারেন আরাফাত সানি।

কালকের লড়াইয়ে সবার নজর থাকবে তামিম ইকবালের ওপর। ডাউন দ্য উইকেটে আক্রমণাত্মক তামিককে খুঁজবেন অনেকে। যদিও তামিম এবার ব্যর্থতার কাঁটায় বিদ্ধ। হয়তো ভারতের বিরুদ্ধেই সেরাটা জমিয়ে রেখেছেন তিনি।

এছাড়া বিশ্বসেরা অলারাউন্ডারের খাতায় নাম লেখানো সাকিব আল হাসান, ‘সাইলেন্ট কিলার’ মুশফিকুর রহিম আর আবার বিশ্বকাপের এবারের আসরে সেরা পাঁচ ব্যাটসম্যানের একজন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারলেই নতুন ইতিহাস গড়া তেমন কঠিন হবে না।

দেশপ্রেম, ঐক্য এবং সমর্থন

বাংলাদেশ যখন মাঠে খেলে তখন ১১জন নয়, খেলে কিন্তু ১৬ কোটি মানুষ। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া সর্বত্রই তখন একই সুর, একই আওয়াজ। বাংলাদেশ, বাংলাদেশ।

বাংলাদেশী ক্রিকেটাররাও জীবনবাজি রেখে খেলার মাধ্যমে সে আবেগের প্রতি সম্মান দেখান। না, একটুও বাড়িয়ে বলছি না। বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফির কথা কে না জানে? দু’তিনবার চিকিৎসকের ছুরির নিচে গেলেই যেখানে পেস বোলাররা রাস্তা মাপেন সেখানে সাতবার চিকিৎসকের টেবিল শুয়ে, পঙ্গুত্ব বরণের ঝুঁকি নিয়েও দেশের জন্য খেলছেন মাশরাফি।

এই বাংলাদেশ ম্যাচের আগে ছুটে যায় বিদেশ বিভুঁইয়ের শহীদ মিনারে। জয় উৎসর্গ করতে জানে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের।

বাংলাদেশের ক্রিকেট মানেই ক্রিকেটীয় কৌশলের সঙ্গে দেশপ্রেমের রসায়ন। আর ভারতের দিকে দৃষ্টি দিন। দেখবেন, দেশপ্রেম নয় কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা উপার্জনের পথ তৈরি ও রক্ষাই তাদের লক্ষ্য।

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে ঐক্যে কোন ঘাটতি নেই। একজন মাশরাফির প্রতি রয়েছে সবার প্রশ্নাতীত আনুগত্য।  কিন্তু সেটা পাবেন না ভারতে। যতই তারা চাপা দিয়ে রাখুক না কেন। শ্রেষ্ঠত্বের হামবড়া ভাব, প্রদেশের আধিপত্য মিলিয়ে রয়েছে কোন্দলের ধারাবাহিকতা।

এইতো সেদিন বিশ্বকাপের প্রাক্কালে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই শেখর ধাওয়ানের দিকে ছুরি নিয়ে তেড়ে গিয়েছিলেন নাকি অধিনায়ক কোহলি। ভাগ্যিস, দুর্ঘটনা ঘটেনি। সবাই জানে, বাংলাদেশের প্রত্যেক ক্রিকেটারের মাতৃভাষা বাংলা। সবাই একই বোলে অভ্যস্ত। একই সংস্কৃতির ধারক-বাহক।

কিন্তু ভারতের ক্রিকেটারদের মাতৃভাষা একাধিক। তাদের ব্যবহার করতে হয় পরের ভাষা। ভারতীয় শিবিরে ভাগ হয়ে থাকে জাট, মাউরা, মারাটি, তামিল নানা সংস্কৃতি। বলুন না, আন্তরিকতার বন্ধনে কারা সুদৃঢ়? 

সবচেয়ে বড় কথা বাংলাদেশের ১১ যোদ্ধা যখন লড়েন, তখন মূলতঃ লড়েন ১৬ কোটি মানুষ। সর্বত্রই তখন একই গর্জন- বাংলাদেশ, বাংলাদেশ।  

 

হাইপার টেনশনে ভারত ! : এমন জানলে গত সপ্তাহ থেকে পেইন কিলার আর স্লিপিং পিল আরো বেশি করে ভারতের বাজারে ছাড়ত ওষুধ কোম্পানিগুলো। গত এক সপ্তাহে যে এই দু’ধরনের ওষুধের শুধু বিক্রিই বাড়েনি, মূল্যও বেড়েছে কয়েক গুন।

টেনশনে ভুগছে ভারতীয়রা। নিদ্রাকুসুম তেলের কার্যকারিতা কমেতো যাবেই, ১৯ মার্চ যখন সামনে দাড়িয়ে আছে মাশরাফিবাহিনী।

এবারের বিশ্বকাপের শুরু থেকে বিভিন্ন প্রতিপক্ষকে তাচ্ছিল্য করে ‘মওকা’ নামে যে কুরুচিপূর্ণ বিজ্ঞাপনে ভারতীয় মিডিয়া মজা নিচ্ছিল, বাংলাদেশ সামনে আসায় কিছুটা থমকে যেতে হলো। কি আর করা!

পরিচালকের স্মৃতিতে ভেসে আসে ২০০৭ আর ২০১১। তাই নিজের মনকে শান্ত্বনা দেওয়ার জন্যে ফিল্মের নায়ক রনবীর কাপুরকে ‘মওকা’ বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হয়েছে এবার। এরপরও যদি গ্রুপ পর্বের মতো শান্তি আসে!

 

আরও পড়ুন
বাণিজ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত